পিতা তাঁর পুত্রকে পাঠান
সাম্রাজ্যজুড়ে এক নাম-নিবন্ধনের সময়ে, নিজেদের নয় এমন এক নগরে তাঁর জন্ম হল, আর তাঁকে শোয়ানো হল এক যাবপাত্রে; মেষপালকেরাই প্রথমে তা শুনল। পরে শিমিয়োন তাঁকে কোলে নেন এবং মরিয়মকে সতর্ক করেন যে এক তরোয়াল তাঁকেও বিদ্ধ করবে; আর বারো বছর বয়সে তিনি পিছনে থেকে যান, মন্দিরকে তাঁর পিতার গৃহ বলে ডাকেন।
2 1সেই সময়ে কৈসর আগস্ত এক আজ্ঞা জারি করলেন, যেন সমগ্র বসতিপূর্ণ জগতের নাম-নিবন্ধন করা হয়। a a v1 'সমগ্র বসতিপূর্ণ জগৎ' বলতে রোমীয় সাম্রাজ্যের অধীন অঞ্চলগুলিকে বোঝায়, সমগ্র পৃথিবীকে নয়। 2এটিই ছিল প্রথম নাম-নিবন্ধন, যখন কুরীণিয় সুরিয়ার রাজ্যপাল ছিলেন। 3নাম নিবন্ধিত করাবার জন্য প্রত্যেকে নিজের নিজের নগরে গেল। 4যোষেফও গালীল প্রদেশের নাসরৎ নগর থেকে যিহূদিয়ায়, দায়ূদের নগর বেথলেহেমে উঠে গেলেন, কারণ তিনি দায়ূদের কুল ও বংশের লোক ছিলেন, 5যেন তাঁর বাগ্দত্তা মরিয়মের সঙ্গে তাঁরও নাম নিবন্ধিত হয়; মরিয়ম তখন গর্ভবতী ছিলেন।
6তাঁরা সেখানে থাকতে থাকতেই তাঁর প্রসবের সময় উপস্থিত হল। 7আর তিনি তাঁর প্রথমজাত পুত্রকে প্রসব করলেন, এবং তাঁকে কাপড়ে জড়িয়ে একটি যাবপাত্রে শুইয়ে রাখলেন, কারণ পান্থশালায় তাঁদের জন্য স্থান ছিল না।
8সেই একই অঞ্চলে কয়েকজন মেষপালক মাঠে ছিলেন, তাঁরা রাত্রিকালে নিজেদের পালের পাহারা দিচ্ছিলেন। 9আমাদের পিতার এক দূত তাঁদের সামনে দাঁড়ালেন, এবং আমাদের পিতার মহিমা তাঁদের চারদিকে উজ্জ্বল হয়ে উঠল, আর তাঁরা অত্যন্ত ভীত হলেন। 10তখন দূত তাঁদের বললেন, "ভয় পেয়ো না—আমি তোমাদের কাছে মহা আনন্দের সুসমাচার নিয়ে এসেছি, যা সমস্ত লোকের জন্য: 11আজ দায়ূদের নগরে তোমাদের জন্য একজন ত্রাণকর্তা জন্মগ্রহণ করেছেন—তিনি প্রভু খ্রীষ্ট। 12আর তোমাদের জন্য এই চিহ্ন থাকবে: তোমরা দেখবে একটি শিশু কাপড়ে জড়ানো অবস্থায় একটি যাবপাত্রে শুয়ে আছে।" 13হঠাৎ সেই দূতের সঙ্গে স্বর্গীয় বাহিনীর এক বিশাল দল উপস্থিত হলেন, তাঁরা আমাদের পিতার প্রশংসা করে বলতে লাগলেন,
14"ঊর্ধ্বলোকে আমাদের পিতার মহিমা, আর পৃথিবীতে সেইসব লোকের মধ্যে শান্তি, যাদের উপরে তিনি প্রসন্ন!" b b v14 দূতদের এই স্তবগানে সরাসরি আমাদের পিতার নাম ঘোষিত হয়—এই বড়দিনের মহিমা তাঁরই, যিনি তাঁর পুত্রকে জগতে পাঠাচ্ছেন।
15দূতেরা তাঁদের ছেড়ে স্বর্গে চলে গেলে পর, মেষপালকেরা একে অপরকে বললেন, "চল, আমরা সোজা বেথলেহেমে গিয়ে দেখি, এই যে ঘটনা ঘটেছে, যা আমাদের পিতা আমাদের জানিয়েছেন।" 16তখন তাঁরা তাড়াতাড়ি গিয়ে মরিয়ম ও যোষেফকে, এবং সেই যাবপাত্রে শুয়ে থাকা শিশুটিকে দেখতে পেলেন। 17তাঁকে দেখে, এই শিশুটির বিষয়ে তাঁদের যা বলা হয়েছিল, তা তাঁরা জানালেন। 18আর মেষপালকেরা যা যা বললেন, তা শুনে সকলে আশ্চর্য হল। 19কিন্তু মরিয়ম এই সমস্ত কথা মনে সঞ্চয় করে রাখলেন এবং হৃদয়ে ধ্যান করতে লাগলেন। 20পরে মেষপালকেরা তাঁদের যেমন বলা হয়েছিল, সেইমতো যা কিছু শুনেছিলেন ও দেখেছিলেন, সেই সমস্তের জন্য আমাদের পিতার গৌরব ও প্রশংসা করতে করতে ফিরে গেলেন।
পিতার কাছে উৎসর্গিত
21তাঁর ত্বকচ্ছেদের আট দিন সম্পূর্ণ হলে পর, তাঁর নাম যীশু রাখা হল, এই নাম গর্ভে ধারণ হবার আগেই দূত রেখেছিলেন।
22মোশির ব্যবস্থা অনুসারে তাঁদের শুচিকরণের দিন সম্পূর্ণ হলে পর, তাঁরা তাঁকে আমাদের পিতার কাছে উৎসর্গ করবার জন্য যিরূশালেমে নিয়ে গেলেন,
23(যেমন আমাদের পিতার ব্যবস্থায় লেখা আছে, "প্রত্যেক প্রথমজাত পুরুষ-সন্তান আমাদের পিতার উদ্দেশে পবিত্র বলে গণ্য হবে"), 24এবং আমাদের পিতার ব্যবস্থায় যেমন বলা হয়েছে, সেই অনুসারে বলিদান উৎসর্গ করবার জন্য: এক জোড়া ঘুঘু কিংবা দুটি পায়রার শাবক।
25সেই সময়ে যিরূশালেমে শিমিয়োন নামে এক ব্যক্তি বাস করতেন, তিনি ধার্মিক ও ভক্ত ছিলেন, ইস্রায়েলের সান্ত্বনার প্রতীক্ষায় ছিলেন, এবং পবিত্র আত্মা তাঁর উপরে ছিলেন। 26পবিত্র আত্মা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, আমাদের পিতার খ্রীষ্টকে না দেখা পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হবে না। 27আত্মার চালনায় তিনি মন্দিরে প্রবেশ করলেন। আর ব্যবস্থার রীতি অনুসারে শিশুটির প্রতি যা করণীয়, তা করবার জন্য যখন পিতামাতা শিশু যীশুকে ভিতরে নিয়ে এলেন, 28তখন শিমিয়োন তাঁকে কোলে তুলে নিলেন এবং আমাদের পিতার ধন্যবাদ করে বললেন, 29"হে সার্বভৌম পিতা, এখন তুমি তোমার বাক্য অনুসারে তোমার দাসকে শান্তিতে বিদায় নিতে দিচ্ছ। 30কারণ আমার চোখ তোমার পরিত্রাণ দেখতে পেয়েছে, 31যা তুমি সমস্ত জাতির সামনে প্রস্তুত করেছ: 32এ এক আলো, যা অইহুদিদের কাছে প্রকাশের জন্য, এবং তোমার প্রজা ইস্রায়েলের গৌরবের জন্য।"
33তাঁর বিষয়ে যা যা বলা হল, তাতে তাঁর পিতা ও মাতা আশ্চর্য হলেন। 34আর শিমিয়োন তাঁদের আশীর্বাদ করলেন এবং তাঁর মাতা মরিয়মকে বললেন, "দেখো, এই শিশু ইস্রায়েলের মধ্যে অনেকের পতন ও উত্থানের জন্য এবং এমন এক চিহ্নরূপে নিযুক্ত হয়েছেন, যার বিরুদ্ধে লোকে কথা বলবে, 35আর একটি তরোয়াল তোমার নিজের প্রাণও বিদ্ধ করবে—যেন অনেক হৃদয়ের চিন্তা প্রকাশ পায়।"
36সেখানে হান্না নামে একজন নারী-ভাববাদিনীও ছিলেন, তিনি আশের বংশের ফনূয়েলের কন্যা, অতি বৃদ্ধা; বিবাহের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে সাত বছর বাস করেছিলেন, 37এবং তারপর চুরাশি বছর বয়স পর্যন্ত বিধবা ছিলেন; তিনি মন্দির ছেড়ে যেতেন না, দিন-রাত উপবাস ও প্রার্থনার সঙ্গে উপাসনা করতেন। 38সেই একই মুহূর্তে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে আমাদের পিতার ধন্যবাদ করলেন, এবং যাঁরা যিরূশালেমের মুক্তির প্রতীক্ষায় ছিলেন, তাঁদের সকলের কাছে সেই শিশুর কথা বললেন।
39আমাদের পিতার ব্যবস্থা অনুসারে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করবার পর, তাঁরা গালীলে, তাঁদের নিজেদের নগর নাসরতে ফিরে গেলেন। 40শিশুটি বেড়ে উঠতে লাগলেন, বলবান হলেন, প্রজ্ঞায় পূর্ণ হলেন, এবং আমাদের পিতার অনুগ্রহ তাঁর উপরে ছিল।
বালক যীশু তাঁর পিতার গৃহে
41তাঁর পিতামাতা প্রতি বছর নিস্তারপর্বের উৎসবে যিরূশালেমে যেতেন। 42তাঁর বারো বছর বয়স হলে, তাঁরা উৎসবের রীতি অনুসারে সেখানে উঠে গেলেন। 43উৎসবের দিন সমাপ্ত হলে পর, তাঁরা যখন ঘরে ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন বালক যীশু যিরূশালেমেই রয়ে গেলেন, কিন্তু তাঁর পিতামাতা তা জানতেন না। 44তিনি সঙ্গীদলের মধ্যে আছেন মনে করে তাঁরা একদিনের পথ চললেন, তারপর আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে তাঁর খোঁজ করতে লাগলেন। 45কিন্তু তাঁকে না পেয়ে, তাঁরা তাঁর খোঁজ করতে করতে যিরূশালেমে ফিরে গেলেন। 46তিন দিন পরে তাঁরা তাঁকে মন্দিরে দেখতে পেলেন; তিনি গুরুদের মধ্যে বসে তাঁদের কথা শুনছিলেন ও তাঁদের প্রশ্ন করছিলেন। 47আর যারা তাঁর কথা শুনছিল, তারা সকলে তাঁর বুদ্ধি ও উত্তর শুনে আশ্চর্য হল। 48তাঁকে দেখে তাঁর পিতামাতা অবাক হলেন। তাঁর মাতা তাঁকে বললেন, "বাছা, তুমি আমাদের প্রতি এমন কেন করলে? দেখো, তোমার বাবা ও আমি ব্যাকুল হয়ে তোমার খোঁজ করছিলাম।"
49তিনি তাঁদের বললেন, "তোমরা কেন আমার খোঁজ করছিলে? তোমরা কি জানতে না যে, আমার পিতার গৃহে আমাকে থাকতেই হবে?" c c v49 যীশু বলছেন "আমার পিতা"—এ তাঁর অনন্য, চিরন্তন সম্পর্ক। বাকি সমস্ত শাস্ত্র যেখানে আমাদের "আমাদের পিতা" বলার আমন্ত্রণ জানায়, সেখানে একমাত্র যীশুই এই বিশেষ অর্থে তাঁকে "আমার পিতা" বলে ডাকেন: তিনি স্বভাবতই পুত্র; আর আমরা তাঁর গ্রহণের দ্বারা সন্তান।
50কিন্তু তিনি তাঁদের যে কথা বললেন, তা তাঁরা বুঝতে পারলেন না। 51পরে তিনি তাঁদের সঙ্গে নেমে গিয়ে নাসরতে এলেন এবং তাঁদের বাধ্য হয়ে রইলেন। আর তাঁর মাতা এই সমস্ত কথা তাঁর হৃদয়ে রেখে দিলেন। 52আর যীশু প্রজ্ঞায় ও দেহের বৃদ্ধিতে এবং আমাদের পিতার ও মানুষের কাছে অনুগ্রহে বেড়ে উঠতে লাগলেন।