শিবার রানি প্রজ্ঞার খোঁজ করেন
আমাদের পিতা শলোমনকে যে প্রজ্ঞা দিয়েছিলেন তা পরীক্ষা করতে শিবার রাণী আসেন এবং স্তব্ধ হয়ে ফেরেন, বলেন যে শোনা কথা অর্ধেকও ছিল না। সোনা, হাতির দাঁত, ঢাল ও ঘোড়া এত জমে যে যিরূশালেমে রুপার কোনো মূল্যই থাকে না, আর প্রত্যেক রাজা তাঁর সাক্ষাৎ চান।
10 1শিবার রানি যখন শলোমনের খ্যাতির কথা শুনলেন, যা আমাদের পিতার নামের সঙ্গে জড়িত ছিল, তখন তিনি কঠিন প্রশ্ন দিয়ে তাঁকে পরীক্ষা করতে এলেন। 2তিনি এক বিশাল দলবল নিয়ে যিরূশালেমে এলেন—উটেরা বহন করছিল সুগন্ধি দ্রব্য, প্রচুর পরিমাণে সোনা ও মূল্যবান রত্ন। শলোমনের কাছে পৌঁছে তিনি তাঁর হৃদয়ে যা কিছু ছিল, সবই তাঁকে বললেন। 3শলোমন তাঁর সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন; রাজার কাছে এমন কিছুই দুর্বোধ্য ছিল না, যা তিনি তাঁকে বুঝিয়ে বলতে পারলেন না। 4শিবার রানি যখন শলোমনের সমস্ত প্রজ্ঞা এবং তাঁর নির্মিত প্রাসাদ দেখলেন, 5তাঁর টেবিলের খাবার, তাঁর কর্মকর্তাদের বসার ধরন, তাঁর পরিচারকদের পোশাক পরে পরিবেশন করা, তাঁর পানপাত্র-বাহকদের, এবং আমাদের পিতার গৃহে তাঁর উৎসর্গ করা হোমবলি—দেখে তাঁর নিঃশ্বাস আটকে গেল। 6তিনি রাজাকে বললেন, "আপনার কথা ও আপনার প্রজ্ঞা সম্বন্ধে আমার নিজের দেশে যে খবর আমি শুনেছিলাম, তা সত্য ছিল। 7যতক্ষণ না আমি এসে নিজের চোখে দেখলাম, ততক্ষণ আমি সেই খবর বিশ্বাস করিনি। এর অর্ধেকও আমাকে বলা হয়নি! আমার শোনা খবরের চেয়ে আপনার প্রজ্ঞা ও সমৃদ্ধি অনেক বেশি। 8কত সুখী আপনার লোকেরা! কত সুখী আপনার এই দাসেরা, যারা সবসময় আপনার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে এবং আপনার প্রজ্ঞা শোনে! 9ধন্য সদাপ্রভু আপনার ঈশ্বর, যিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং আপনাকে ইস্রায়েলের সিংহাসনে বসিয়েছেন! সদাপ্রভু ইস্রায়েলকে চিরকাল ভালোবেসেছেন বলেই তিনি ন্যায়বিচার ও ধার্মিকতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য আপনাকে রাজা করেছেন।" 10তিনি রাজাকে প্রায় চার টন সোনা, প্রচুর পরিমাণে সুগন্ধি দ্রব্য এবং মূল্যবান রত্ন দিলেন। শিবার রানি রাজা শলোমনকে যত সুগন্ধি দ্রব্য দিয়েছিলেন, তত সুগন্ধি দ্রব্য আর কখনও আসেনি।
11হীরমের জাহাজবহর, যা ওফীর থেকে সোনা নিয়ে আসত, ওফীর থেকে প্রচুর পরিমাণে চন্দনকাঠ ও মূল্যবান রত্নও নিয়ে এল। 12রাজা সেই চন্দনকাঠ দিয়ে আমাদের পিতার গৃহ ও রাজার প্রাসাদের জন্য খুঁটি এবং গায়কদের জন্য বীণা ও নেবল তৈরি করালেন। এমন চন্দনকাঠ তারপর আর কখনও আসেনি বা দেখা যায়নি।
13রাজা শলোমন শিবার রানিকে তাঁর ইচ্ছামতো সবকিছু দিলেন, তিনি যা চাইলেন তা তো বটেই, উপরন্তু নিজের রাজকীয় দানশীলতা থেকে যা দিলেন তাও দিলেন। তারপর তিনি ও তাঁর দাসেরা নিজের দেশে ফিরে গেলেন।
শলোমনের জাঁকজমক, আমাদের পিতার দান
14এক বছরে শলোমনের কাছে যে পরিমাণ সোনা আসত তার ওজন ছিল প্রায় পঁচিশ টন, 15এছাড়া ছিল বণিকদের কাছ থেকে আয়, ব্যবসায়ীদের মুনাফা, আরবের সব রাজার এবং দেশের শাসনকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব। 16রাজা শলোমন পেটানো সোনা দিয়ে ২০০টি বড় ঢাল তৈরি করালেন, প্রতিটিতে প্রায় পনেরো পাউন্ড সোনা লাগল। 17তিনি পেটানো সোনা দিয়ে ৩০০টি ছোট ঢাল তৈরি করালেন, প্রতিটিতে প্রায় ৩.৭৫ পাউন্ড সোনা; রাজা সেগুলো লিবানোনের অরণ্য-গৃহে রাখলেন। 18রাজা আরও একটি বড় হাতির দাঁতের সিংহাসন তৈরি করালেন এবং তা খাঁটি সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিলেন। 19সিংহাসনটির ছয়টি ধাপ ছিল এবং পিছনের দিকের উপরিভাগ ছিল গোলাকার। বসার আসনের দুই পাশে ছিল হাতল, আর সেগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে ছিল দুটি সিংহ। 20ছয়টি ধাপের উপরে দাঁড়িয়ে ছিল বারোটি সিংহ, প্রতিটি ধাপের দুই প্রান্তে একটি করে। কোনো রাজ্যের জন্য এমন কিছু কখনও তৈরি হয়নি। 21রাজা শলোমনের সব পানপাত্র ছিল সোনার, আর লিবানোনের অরণ্য-গৃহের সমস্ত পাত্র ছিল খাঁটি সোনার। কোনোটাই রুপার ছিল না; শলোমনের সময়ে রুপাকে কিছুই বলে গণ্য করা হত না। 22সমুদ্রে রাজার বাণিজ্য-জাহাজ ছিল, হীরমের জাহাজবহরের সঙ্গে। প্রতি তিন বছর অন্তর সেগুলো সোনা, রুপা, হাতির দাঁত, বানর ও লাঙ্গুর নিয়ে ফিরে আসত।
23এইভাবে রাজা শলোমন ধনসম্পদে ও প্রজ্ঞায় পৃথিবীর সব রাজাকে ছাড়িয়ে গেলেন। 24সমস্ত পৃথিবী শলোমনের সাক্ষাৎ পেতে চাইত, যেন আমাদের পিতা তাঁর হৃদয়ে যে প্রজ্ঞা দিয়েছিলেন, তা শুনতে পায়। 25বছরের পর বছর প্রত্যেকে নিজের উপহার নিয়ে আসত: রুপা ও সোনার জিনিসপত্র, পোশাক, অস্ত্রশস্ত্র, সুগন্ধি দ্রব্য, ঘোড়া ও খচ্চর।
26শলোমন রথ ও অশ্বারোহী জড়ো করলেন: ১,৪০০টি রথ ও ১২,০০০ অশ্বারোহী, যাদের রথ-নগরগুলোতে এবং যিরূশালেমে রাজার সঙ্গে মোতায়েন করা হল। 27রাজা যিরূশালেমে রুপাকে পাথরের মতো সাধারণ করে তুললেন, এবং এরসকাঠকে নিম্নভূমির ডুমুরগাছের মতো প্রচুর করে তুললেন। 28শলোমনের ঘোড়া আসত মিশর ও কুয়ি থেকে; রাজার বণিকেরা বাজার-দরে কুয়ি থেকে সেগুলো কিনত। 29মিশর থেকে একটি রথ আমদানি করা হত প্রায় পনেরো পাউন্ড রুপায়, আর একটি ঘোড়া প্রায় চার পাউন্ডে; এবং এই বণিকদের মাধ্যমে সেই রথ ও ঘোড়া হিত্তীয় ও অরামের সব রাজার কাছে যেত।